শনিবার, ১২ মার্চ, ২০১৬
একটা কবিতা শুনবো বলে
তুমি আমায় কবিতা শোনাচ্ছ
একটা কবিতা লেখা হলেই
এ তোমার প্রতিবেলার নিয়ম।
আজকের লেখাটা অনেক বড় ছিল
হৃৎপিণ্ডের কথা আসছিল বারেবার,
এবং যতবারই আমি তার মূর্ছনায় হারাচ্ছিলাম
প্রতিবারই তোমার বাড়ীর পাশে রাস্তা থেকে ক্রমাগত ভেসে আসছিলো
নানান ফেরিওয়ালার সুর।
এই যে, মাছ আছে, ইলিশ মাছ,
তরকারি নেবেন? তরকারি?
বসন্তের নতুন কুল এসেছে।
ফেরিওয়ালা চেঁচাচ্ছে তারস্বরে , এই যে বড়ই আছে , বড়ই নেবেন?
বারবার আমি ঐ একটা পঙক্তি হারিয়ে ফেলছিলাম।
'হৃৎপিণ্ডের বাঁ পাশে কেও আছে'
এই বাক্য টা হারিয়ে যাচ্ছিলো ওদের চিৎকারে।
প্রতিদিন তাই হয়,
কবিতার যে জায়গাটা আমার জন্যে রাখা
আর শোনা হয়না।।
রাতগুলো আমার নয়
তাই রাতের নীরবতা চাইতে পারিনা।
রাত গুলোতে কেও একজন তোমার পাশে বসে ,
আদর করে বলে," শোবে এসো"
তারপর
ঠিক তোমার হৃৎপিণ্ডের বাঁ পাশে এসে শুয়ে পড়ে ঐ মিষ্টি মুখ।
আর অনেক দূরের থেকে আমি অপেক্ষায় থাকি সকাল হবার
একটা কবিতা শুনবো বলে
আর কোথাও না হউক
তোমার কবিতার হৃৎপিণ্ডে তো আমি আছি।
সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
কুমু তুই একবার জেগে ওঠ
এসেছে ফাগুন মাস,
কেউ বলে পলাশের
কেউ বলে শিমুলের
কেউ বা কৃষ্ণচূড়ার।
আর আমি বলি পাগলা হাওয়ার।
এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি
অক্লান্ত ডাল পালা ছড়ানো
ছাতিম গাছটার নীচে।
সময় টা খুব বেশী দিন আগের নয়।
ঠিক এখানটাতেই দাঁড়াতাম
সারা শহর ঘুরে এসে
সারা দিনের কাজের শেষে।
ঠিক এখানটাতেই
আর ঠিক এই মাসটাতেই সে যেন তীব্র থেকে
তীব্রতর হয়।
রাতের গভীরতার সাথে পাল্লা দিয়ে
বয়ে যায় উচ্ছল আনন্দে
মাতাল বাতাস।
কিন্তু তুই নাম দিলি পাগলা হাওয়া।
আর বললি,
ওকে বয়ে যেতে দে না একবার মৃত শরীরে,
দেখবি ঠিক প্রান পাবে কঙ্কাল ও।
আমি খুব বিশ্বাস করে ফেলেছিলাম তোর কথাটা।
কবর খানার পাশ দিয়ে ঐ হাওয়া বয়ে গেলে
একটু কেমন শিউড়েও উঠতাম।
যদি জেগে ওঠে কোন কঙ্কাল!
তুই এতো মিথ্যে কথা কেন বলতি রে কুমু?
তোর মৃত শরীরে কি এই হাওয়া পৌঁছায় না?
কোন দিন ?
কখনো?
মাটির কত নীচে শুয়ে আছিস তুই?
বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
হঠাৎ পিছু
চিঠিগুলো বিবর্ণ , ধূসর
অপরাজিতার নীল পাপড়ি
ছিল ডায়েরীর পাতার ভাঁজে
কোথায় যে রেখেছি ডায়েরি টা?
আর মনে পড়েনা।
এখন তো ছবি মানে আর কাগজের ছবি নয়।
আঙ্গুলের আলতো ছোঁয়ায় হাজার ছবির জন্ম হয়।
মনে পড়ে তোর?
সেই এক একটা ছবি?
কোথাও মায়ের রাখা শৈশব,
কোথাও বা আমাদের প্রথম
পাশাপাশি দাঁড়ানো মিষ্টি ছবিটা ?
বেশ গোল গাপ্পা ছিলি তখন দেখতে।
মনে পড়ে?
ওটা ছিঁড়ে টুকরো করার জন্যে কতইনা মারামারি।
ভাগ্যিস রেখেছিলাম বড় যত্নে বুকপকেটে ।
ঠিক যেখানে হৃৎপিণ্ডের শব্দ টা আসতো ভেসে
সেই ছবিটার শেষ অব্দি জায়গা হোল অঙ্ক খাতার পাতায়।
কত বছর
আহা কত বছর লুকিয়ে রেখেছি আদরে, ভালবাসায়।
খাতাটা পেলাম সেদিন।
কেমন অদ্ভুত , অসময়ে,
ফেলতে গিয়ে পুরনো অনেক কিছু
সময় যেন ডাকলো হঠাৎ পিছু।
পায়ের কাছে ছড়িয়ে পড়া
চারটে হলুদ ছবি,
কোথায় লুকাই, কে যে তাকায়,
এলোমেলো সবই।
আর পারিনা রে
আর পারিনা লুকোতে তোরে ,
সারাটা জীবন লুকিয়ে রেখে
হারাচ্ছিস ধীরে ধীরে ।
আজ তোর ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলাম আলমারিটার চাবি
বুকপকেটে রেখে তোরে ছাড়বো এবার সবই।
মঙ্গলবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
শুক্রবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৬
তোমরা ভালো থেকো
মাত্র দু মাস হোল
আমার চলে যাওয়া
খুব কি কষ্ট হচ্ছিলো তোমাদের ?
হচ্ছিলো কি অক্লান্ত পরিশ্রম ?
অসুস্থ আমার শরীর টা কি
বড্ড ভারী হয়ে পড়ছিল দিন প্রতিদিন?
টেনে টেনে হাসপাতালের ছ ফিট বাই দু ফিট
বিছানায় শুইয়ে দিতে খুব কি কষ্ট হতো তোমাদের?
এখন তোমরা কেমন আছো?
অনেক ভালো আছো আমি জানি।
ঐ যে একটা কথা আছেনা,
কে হায় হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে ভালবাসে নাকি কি যেন?
ঠিক অমনটাই ।
আমি এই অন্ধকারেই আছি
তোমরা যেখানে শুইয়ে দিয়ে গেছ ।
আচ্ছা তোমরা কি জানো ?
সবকিছু মরে যায় শুধু চোখ মরেনা?
ঐ কুচকুচে অন্ধকারে অদ্ভুত নীরবতায় ,
আমার দুটো চোখ বেড়ালের মতন জ্বলে ওঠে,
আমি দেখতে পাই
সব, সবকিছু দেখতে পাই,
আমি দেখতে পাই
কি করে ঐ উজ্জ্বল শ্যামল বরণ
মেয়েটির হাত দুটো দলিত ,উদ্বেলিত হয়
তোমার কঠিন হাতের মুঠোয় ।
আমি দেখতে পাই,
ঠিক দেখতে পাই,
ঐ উজ্জ্বল সুন্দরীর জন্যে তোমার
লালায়িত জিহ্বা ।
আমি কেন সব দেখতে পাই?
আমি কি তবে ঈশ্বরের কাছে
কখনো ভিক্ষা চেয়েছিলাম
কখনো করুনা চেয়ে বলেছিলাম,
হে ঈশ্বর,
তুমি সব নিয়ে যেও মৃত্যুর পর
শুধু আমার চোখ দুটো নিওনা।
নিওনা ঈশ্বর।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)


