বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০১৭

অনুকাব্য ৩

সোনালু ফুল, সোনালু ফুল
সোনা রঙের মেয়ে
তোমার সঙ্গে সখ্য হল
ফুল কুড়োতে যেয়ে।
ফুল নেব কি তোমায় নেব
যখন ভেবেছি
হঠাৎ চোখে পড়লো ছায়া
স্বপ্ন দেখেছি।

জলের মেয়ে ১২

তোমার সঙ্গে প্রতিদিন
যে পথটা দিয়ে হাঁটি 
এখন সে পথে একা আমি।
তোমাকে জানালেই তুমি বল,
সামলে নাও,
জীবন কখনো একইভাবে চলেনা।
তোমার সঙ্গে প্রতিদিন
যে টং ঘরটাতে চা খেতাম
এখন ঐ ঘরটা আমায় একলা দেখে হাসে।
ঝাঁপ খোলা ঐ ঘরটাকে 
দেখে মনে হয়
কি বিদ্রূপ ঐ হাসির মধ্যে।
তোমাকে জানালেই তুমি বল
সামলে নাও,
জীবন কখনো একইভাবে চলেনা।
একেকটা ঋতু আমাকে একেক স্মৃতির কষ্ট দেয়।
বর্ষায় রিক্সা বাসরে তোমার তীব্র চুমু,
গ্রীষ্মে আমার চিবুকের বিন্দু বিন্দু ঘাম লেহন
যেন বড় স্বাদের কোন পানীয় ,
শরতে কাশের দোলায় দুলিয়েছো নাভিমূল ,
হেমন্তে সোনালী চড়ুই এর সাথে
নবান্নের শৈশব,
শীতে তোমার সোয়েটারের ভিতর 
আমার ঠাণ্ডা হাত দুটোর উষ্ণতার খোঁজ,
আর বসন্তে?
বসন্তে কাকের বাসা খুঁজে খুঁজে
কোকিলের কুহু শোনার বিলাসি অপেক্ষা,
এ সমস্ত কিছু মনে পড়ে গেলে
যেই না ভিজে যায় চোখ,
আমি তোমাকে জানালেই তুমি বল,
সামলে নাও,
জীবন কখনো একইভাবে চলেনা।
আজ তোমায় জানাচ্ছি শোন,
আমি আর পুরনো স্মৃতি নিয়ে থাকতে পারছিনা।
ওমা কথাটার শেষ শব্দ দুটো জানার আগেই
তুমি বললে,
আরেকটু সামলে নাও লক্ষিটি,
আমি আসছি
স্মৃতি তোমার আমার সাথেই হবে
একটু পরেই আকাশে ভাসছি
যেওনা কোথাও
অন্য কোন খানে
পাবেনা খুঁজে
আর জীবনের মানে,
সামলে নাও আরেকটু
আমি আসছি
একটু বাদেই
হাওয়ায় ভাসছি।
আমার খুব ইচ্ছে হল বলি,
এখন তবে সময় হল চলি
হাওয়ায় তুমি ভেসে বেড়াও সুখে
আমি একটু মুক্তি খুঁজি
আমার নিজের চোখে।

অদ্ভুত শহর

এই শহরে বৃষ্টি হলে
নৌকা চলে জলেস্থলে
এই শহরে বৃষ্টি হলে
চিকুনগুনিয়া ডানা মেলে
এই শহরে বৃষ্টি হলে
মানুষ মরে দলে দলে
এই শহরে বৃষ্টি হলে
কবিতা যায় অতল তলে।
কলম নাকি লেখার ছুরি
ছুরিতো কাজ করছেনা
মেয়র দুজন বেশতো আছেন
কথার ঝুরি থামছেনা।
এই শহরে বৃষ্টি হলে
সৃষ্টিতো আর থাকবেনা
এই শহরে বৃষ্টি হলে
কবিতা আর জমবেনা।

আকাশ ঘুরে এলাম

দুমাস পরে আজ তোমাকে
হাতের মুঠোয় পেলাম
আজ সূর্য আর ডোবেনি
আকাশ ঘুরে এলাম।
তোমায় পেলে জোস্নাও কি
দিনের মতন থাকে!
মন খারাপের রাতগুলোকে
আলোয় ভরে রাখে?
দুমাস পরে আজ তোমাকে
হাতের মুঠোয় পেলাম
রূপকথা নয়, রূপকথা নয়
আকাশ ঘুরে এলাম।

জলের তাণ্ডব

প্রতিদিন জলের তান্ডব দেখি
চারকোনা বাক্সটা যেন
ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়
জলের ঘূর্ণী।
প্রতিদিন দেখি
শোবার ঘরে আয়েশী চেয়ারে
এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা হাতে
প্রতিদিন দেখি
দেখে যাই
জলের তান্ডব
আর নিজেকে প্রশ্ন করি
মনে মনে 
খুব চুপে
আমি ওদের পাশে দাঁড়াব কি করে!
স্বয়ং ঈশ্বরইতো ওদের পাশে নেই।
আমাদের ভদ্রপল্লীর ঈশ্বর
আমাদের সংগেই থাকেন।

কাছের মানুষ

প্রতিরাতে অমন বৃষ্টি কেন?
শ্রাবণ যে।
শ্রাবণে বুঝি রাতভর বৃষ্টি হয়?
হূম, সারাদিন মেঘ আর রাত এলেই ঝরে পড়ে অভিমান ।
আমার মত ?
কেন? তোমার মত হবে কেন? 
আমিও তো শ্রাবণের মত। রাতভর একা। দিনভর জেগে জেগে কারোর ঘুম দেখা ?
কেন? রাতে তো আমি তোমার কাছেই থাকি।
থাকো? আমার কাছে? নাকি তোমার কবিতার কাছে? 
দেখ আবার বৃষ্টি। দেখনা যেন পানের বরজের মতন লতানো কান্না ।
অথবা মানিপ্ল্যান্ট।
আচ্ছা আমি কার মত?
জানিনা। দেখিনি তো কখনো।
কখনো কেন আমি হই নাকো তোমার কবিতা? কবি, আমাকে কবিতা করে নেবে ? আমি তোমার শ্রাবণ হব।
ধূর পাগলী, কাছের মানুষ কখনো কবিতা হয়?

অনুকাব্য ২





তুমি ছুঁয়ে দিলে কি যেন হয়
হঠাৎ আমার রূপ খুলে যায়
তুমি ছুঁয়ে দিলে কি যেন হয়
লোকে বলে দেখ সুন্দরী যায়।