বুধবার, ৯ আগস্ট, ২০১৭

অনুকাব্য ১



যাও তো যাও 
অন্য কাউকে ভালোবাসো
গ্রহণের অসুবিধে নিয়ে 
আমার কাছে কেন আসো?



শেখ মুজিবর রহমান


প্রিয় বাংলাদেশ,
অনেক দূরের থেকে দেখছি 
এতোটাই দূর যেখান থেকে ফিরে আসা যায়না চাইলেই,
তবে ঠিক চিনে নিতে পারি তোমায়
শুধু তাই নয়
প্রতিরাতে তোমার যে কান্নার ঢেউ 
সেই ঢেউয়ের শব্দ ও আমার দুয়ারে এসে কড়া নাড়ে ।
দূরে চলে গিয়েছি বলে ভেবোনা
সংযোগ পাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা।
দেহটা হয়তো দূরে কিন্তু আত্মাটা ঠিক ঘুরে বেড়াচ্ছে ।
অতৃপ্ত আত্মা কখনো কি শান্তি পায় বলতো ?
অতৃপ্ত কেন?
আমার মৃত্যুটাই তো অতৃপ্ত
এত সহজ মৃত্যু তো আমি চাইনি।
বুড়ো থুড়থুড়ে হয়েও, 
তোমার সবুজ ঘাসের গায়ে পা পিছলে 
পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়েও
তোমার আকাশটাতে চোখ রাখতে চেয়েছিলাম।
চেয়েছি ওভাবেই শেষ দিনটা আসুক
আমি তৃপ্তি ভরে তোমায় দেখে নিতাম শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।
কিন্তু হয়নি।
থাক ওসব কথা।
প্রিয় বাংলাদেশ,
তোমার বুকের সবুজ ঘাসগুলোর 
আজকাল কেমন লালচে আভা,
যেন ছোপ ছোপ রক্ত। 
আচ্ছা, আমি এবং আমার পুরো পরিবারের এত লাল রক্ত
যে ঘাস রঙ্গিন করতে পারেনি
এখন কি সেখানে বয়ে যায় আরো খুন?
আরো ধর্ষণ ?
আরো পাপ?
আরো অপরাধ?
এমনকি তিরিশ লক্ষ শহীদ যে রক্ত দিয়ে গেছে
তার রঙ কেমন ছিল?
ও আচ্ছা।
ঐ রঙ তো লাল হতে পারেনা
ঐ রঙ মাটিতে পড়েই সবুজ হয়ে যায়
কেননা ঐ একেকটা স্রোতধারাই তো আমার বাংলাদেশের
একেকটা অংশ
গ্রাম অথবা শহর।
কিন্তু আমার দেশ এখন এত লাল কেন?
অভিমানে?
যেমন করে কিশোরীর কপোল 
গোধূলির মতন রঙিন হয় তেমন অভিমানে?
না না এ তো সেই অভিমান নয়।
প্রিয় জন্মভূমি আমার,
তুমি কি এখনো শৃঙ্খলিত ?
ঐ যে, ঐ যে,
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি
তোমার সারা শরীর জুড়ে কতগুলো কুৎসিত হায়না
হাত ধরাধরি করে আছে।
তুমি নড়তে পারছনা,
প্রতিবাদ করতে পারছনা, তুমি আবার যুদ্ধে নামতে চাইছ
তুমি পারছনা।
তুমি পারছনা নিজের সন্তানের সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করতে।
প্রিয় বাংলাদেশ,
আমি যে জানলার পাশে আমার মেয়েটাকে
প্রতিদিন ক্রন্দনরত দেখতে পাই
আকুল হয়ে সে আমায় ডাকে
আমি তার দিকে হাত বাড়াই 
কিন্তু এই হাত যে তার কপাল স্পর্শ করেনা।
প্রিয় বাংলাদেশ আমার,
সযত্নে রেখে আসতে পারিনি বলেই কি
আজ তুমি এতোটাই ক্ষত বিক্ষত?
আচ্ছা?
আমার সব দীর্ঘশ্বাস এক করে যদি
একটা কালবোশেখি পাঠাই 
তুমি পারবেনা?
পারবেনা ঐ হায়নাদের শৃঙ্খল ভেঙে আরেকবার মুক্ত হতে?
পারবেনা?
ইতি
শেখ মুজিবর রহমান

মেয়েটি




কর্ণে তাহার পুষ্পদলের শোভা
মুখমন্ডলে শেষ বিকেলের আভা। 
আকাশ তাহার চোখের কিনার ঘেঁষে 
রাত্রি নামায় ভালোবেসে ভালোবেসে।

হাতের মুঠোয় জোনাক দিতে গিয়ে
দিয়ে দিলাম জোস্নাভরা চাঁদ
চাঁদটি এখন লুকিয়ে তাহার হাতে
অভিমানে অশ্রু ঝরায় রাত।

 

শুক্রবার, ২৩ জুন, ২০১৭

জলের মেয়ে ১১

বসেছে সবুজ নারী
পড়েছে পাতার শাড়ি
পথিক চেয়ে বলে হায় হায়।
ফুলেরা খুশি বটে
ঘাসেরা অকপটে
দুখানি পা তার ছুঁয়ে যায়।



শেষ ঠিকানা

তুমি তোমায় নিয়ে থাকো
আমি আমায় নিয়ে থাকি
তুমি তোমার পথে বাঁচো
আমি আমার পথে ভাসি।

তুমি সবুজ পাতা হলে
তোমার অনেক কাজ বাকি
আমি ঝরা পাতার দলে
মন খারাপ করে থাকি।

তুমি আকাশ ছুঁতে চাও
আমি বৃষ্টি পেলে বাঁচি
তুমি মেঘের সাথে যাও
আমি ধুলোয় মিশে থাকি।

তুমি সবুজ থেকে যেদিন
ঝরা পাতার দলে যাবে
শত অবাক বিস্ময়ে
ঠিক আমায় পাশে পাবে।

দেখো মাটির সাথে মিশে
এক অপূর্ব সোঁদা গন্ধ
দেখো ঐখানে যত শান্তি
শেষ ঠিকানায় খাম বন্ধ।

জলের মেয়ে ৯

রুপোলী ফিতের মত পথটা চলে গেছে
কখন কি করে যেন ওপারে
গাছেরা মিলেমিশে হাজার কানাকানি
জড়ায়ে পাতার বোনা চাদরে।
আকাশে মেঘ নেই, সূর্য উঁকি দেয়
বাতাসে ফিসফিস কি কথা
হঠাৎ উঠে এল জলের থেকে মেয়ে
প্রানের মাঝারে বাজে কি ব্যথা।

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০১৭

মেয়ে

চোখে সর্বনাশ দেখেছিলেন রবি ঠাকুর
আমি মৃত্যু দেখেছি হাসিতে
এমন করে হেসোনা তুমি মেয়ে
ঠিক ঝুলে পড়বো ফাঁসিতে।