শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০১৪

চিঠি





চৈত্রের খর রোদ্দুরে পাখির বাসা খুঁজতে খুঁজতে
সেই যে হারিয়েছি...........
আমি!
নাকি তুই ?

তবু তোর ঠিকানা আছে।
আর
ঠিকানাবিহীন আমি
আজ বিকেলে বেরিয়েছিলাম
পাখিটা নতুন করে খুঁজবো ভেবে।
কি আশ্চর্য !
সেতো আগের ঠিকানাতেই রয়ে গেছে।
জানিস ?
ওর একটা সংসার হয়েছে।
তিনটে ছানা।

পাখিরাও কথা রাখে।

আচ্ছা ?
তুই মানুষ না হয়ে পাখি হলিনা কেনো ?

শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০১৪

ব্যবচ্ছেদ

আমিও বহুদূর থেকে দেখছি। আর ওরা দূর পাহাড়ের ওপার থেকে দেখছে আর্তনাদ।আর্তনাদ কি দেখার কিছু?সেতো শোনার আর অনুভব করার।কতকিছুই তো দেখি। কতোটা সময় করে দেখি ?মনের জানালা কি সবসময় খুলে দেখি?
আমার শিশুটি আমার বুকেই সুরক্ষিত। পরম নির্ভরতায়।কি এসে যায় আর কারো শিশুর কান্নায় ?ওদের কান্না দেখবার হতে পারে ,দেখে  ভুলে যাবার হতে পারে ,হৃদয়ঙ্গমের হতে পারেকি ?
হৃদয়ঙ্গমের হলেতো কিছু দায়িত্বের বোঝা কাঁধে নিতে হয়। ভাবতে হয়।অপরকে ভাবাবার কাজ নিতে হয়।
আমিতো ভালই আছি।আমি কিছুটা পলায়ন প্রবণ হয়ে জন্মেছি।সকল বিপদে আমি মনে মনে একজন দেবদূতের অপেক্ষায় থাকি। এখনো তাই আছি।
দেবদূত আবির্ভূত হবেন। যাঁর কাছে থাকবেনা হিন্দু,মুসলিম, বৌদ্ধ ,খ্রিস্টান অথবা ইহুদি,ফিলিস্তিন এর চিরকালের বৈষম্য।যিনি ব্যবচ্ছেদ করতে বসবেননা মানবতা।আকাশের মত বিশাল মনের একজন দেবদূত আসবেন।আমাদের বাঁচাবেন।
হায় !আমিতো এখানেও ভুল করলাম। আকাশ সীমাহীন নয়তো। আকাশেরও সীমা আছে।ভুলেও কেও আর আকাশ কে একার ভেবোনা। বড় বিচ্ছিরিভাবে ধংস হয়ে যাবে।
আমরা তবে কার কাছে যাবো ?

ঈশ্বর ,
তুমি নিজেই বলে দাওনা তোমার লুকোনো কোথায় সেই স্বর্গ, যেথায় কোনো সীমা নেই ?তোমার দেবদূতের এখন আকাশ নিয়েও বাধা। তুমি কেবল পরকালের লোভ দেখাও কেন ঈশ্বর ?তুমি আমাদের একটা স্বর্গ ধরনীতে রচনা করে দেখাও।

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৪

অপেক্ষা






শহরে নয় ,
শহরতলী ছাড়িয়ে,
হাত দুটো বাড়িয়ে,
স্তব্ধ সে দাঁড়িয়ে।
 
ছোট ছোট অশ্বত্থ দেয় উঁকিঝুকি ,
শ্যাওলা ক্লান্ত হেথা রোদ্দুর খুঁজি ,
কাঁকর বিছানো পথ লাল রঙে ছাওয়া ,
সবুজ নীলের মাঝে করে আসা যাওয়া।

সেইখানে দাঁড়িয়ে
হাত দুটো বাড়িয়ে
শহরে নয়তো সে ,
শহরতলী ছাড়িয়ে।


পথ তার একটুও ধুলোমাখা নয়।
ঝরাপাতা শুয়ে শুয়ে কি যে কথা কয়।
বেগুনি জারুল সেথা ছুঁয়েছে আকাশ,
স্তব্ধতা ভেঙ্গেছে দখিনা বাতাস।

শহরে নয়তো সে ,
শহরতলী ছাড়িয়ে
রয়েছে যে দাঁড়িয়ে,
হাত দুটো বাড়িয়ে
যেনো বা অপেক্ষা
আসবে কখন কবে 
রিনিঝিনি হাস্যে,
আলতা নুপুর পায়ে
ঝরাপাতা মাড়িয়ে।



বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০১৪

এতো সুন্দর কেনো তুই









কি সুন্দর ফুলগুলো !


হুম, শাপলা।
খেতে মন্দ নয়।

এসব কি বলিস তুই ?উজবুক কোথাকার।
কতো মিষ্টি রংটা। কি সুন্দর গোলাপী !

তোর ঠোঁটের রঙের চেয়ে বেশি কি ?

তোর মাথাটা খারাপ।
দেখনা কি কোমল পাপড়িগুলো !
মনে হয় যেনো ছুঁয়ে থাকি।

বারণ করেছে কেউ ?
ছুঁয়ে থাকনা।
এনে দেবো ?
একবার কাছ থেকে দেখ
ফুলের রঙ  তোর রঙের কাছে কতোটা হারতে থাকে!

মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০১৪

জীবনের স্বাদ






আমার পরান যাহা চায়
তাহা তুমি নও ,
পরানের গহীন ভিতর
আছে অন্য কেউ।

আমি যারে চাই
তারেতো হয়না বোঝাতে
ভোরে ,দুপুরে অথবা মাঝরাতে।
সে আমায় আপনি বোঝে।

আমি যারে চাই
তারেতো পাইনা দেখিতে
ছুঁয়ে ,চুমিয়ে অথবা দৃষ্টি দিয়ে !
সে আমার হৃদয়ে আপনি রিনিঝিনি বাজে।

থাকা যায়
বেশ থাকা যায় ,
না ছুঁয়ে অথবা ছোঁয়ার বাহিরে ,
আমার পরান দিয়ে আমি জানি
জীবনের স্বাদ আছে হৃদয়ের গভীরে।

থাকা যায়
বেশ ভালো থাকা যায়
স্বপ্ন আর কল্পনার মাঝারে ,
আমার পরান দিয়ে আমি জানি
জীবনের স্পর্শ আছে স্পর্শের বাহিরে।


মঙ্গলবার, ৮ জুলাই, ২০১৪

রুমাল



আরেকটু থাকনা।
বুঝিনা আমার কাছে এলেই কেবল বাড়ির জিনিসপত্র দেখতে থাকিস।
আশ্চর্য ওটা রুমাল
ওটায় কি দেখছিস ?

তোর ঠোঁটের ওপর এই যে  শিশির জমা
মুছিস তো এই রুমালে ?
ওই হলো।
আর কিছু না বুঝলেও চলবে।

এতো তাড়া কিসের তোর ?
এসেই যাই যাই ?
কেন আসিস বলতো ?

গন্ধ নিতে আসি।
দেখতে নয়।
দেখে আশ মেটেনা।
চোখের জ্বালা বাড়ে।
যাই ,
নইলে লোভে পড়বো।
চোখ আমার আগেই গেছে।
শ্বাস গেলে আর বাঁচবোনারে।


মঙ্গলবার, ১ জুলাই, ২০১৪

মাটির কতো রং









মাটির রং টা কালো ছিলো ,
কুচকুচে কালো নয় ,
কেমন একটু বাদামী ও ছিলো মনে হয়।
কিন্তু আমিতো কালোই দেখেছিলাম।
আজ সবুজ লাগছে কেনো ?
মাটির কতো রং!!!!
এই রং টা এত ভালো কেনো ?

নিজের হাতে ঘর বানিয়ে
শুইয়ে দিলাম অন্ধকারে ,
কোত্থেকে তুই আলো  পেলি ?
বেরিয়ে এলি সবুজ হয়ে ?

মৃত্যু কি তবে শেষ কথা নয় ?
আমার পাখি হারায়নি ?
মাটির গভীরে পেয়েছে নতুন জীবন ?
তবে কি  জীবন আছে সবখানে ?
আমার চলার পথে ?
সবুজ ঘাসে ?
জীবন আছে ?
তবেকি আমার পাখি ঘাস হয়ে আছে ?