সোমবার, ১০ মার্চ, ২০১৪

ওরা




সারাবেলা বড় অস্থির
মন যে কেমন করে।
বুক কেঁপে চলে তিরতির
ওই ছোট্ট পাখির তরে।

পাখি মেলছেতো ডানা দিনদিন
গুটিগুটি পায়ে চলছে।
বুঝি আদরের মাঝে প্রতিদিন
নিজেকেই খুঁজে নিচ্ছে।

"তুই ওখানটাতে বসে
অমন হা করে দেখিস কি ?
ওই রঙিন বাক্স এ সারাদিন
মন কেবলই হারায় কি ?

আজ থেকে খাওয়া বন্ধ
তুই যেমন ছিলিস থাক। 
কেনো আমার পাখিটা দিনদিন
শুকিয়ে হচ্ছে কাঠ ?

কাজের মাঝে তো নেই মন
শুধু আকাশ পানেতে চাওয়া।
খাঁচার পাখির হয় কি
ওই আকাশের স্বাদ নেয়া ?

যারা চেঁচিয়ে আকাশ মাতায়
যা তাদের কাছেই যা।
ওরা বলবেই তোরে দেখিস
খেটে মরেই খা।

শিশু শিশু করে ওরা
যতই মরে মরুক ,
জানি ওদের বাড়ি ও খাঁচা
কেড়ে নিচ্ছে তোদের  সুখ।"



 

"তুমি যতই ভয় দেখাও  
দেখো গর্জে উঠেছে ওরা। 
হবেই হবে একদিন 
ওই দূরের আকাশে ওড়া। 

শুরুই যখন হলো 
শেষ আছে নিশ্চয়ই। 
আমি অপেক্ষাতে আছি 
একদিন তালা ভাঙ্গবই।"




রবিবার, ৯ মার্চ, ২০১৪

আমি একলা তো নই কভূ



পাঁচ বেলাতে হাত বাড়িয়ে তোমায় ছুঁতে চাই
কোথায় তুমি ?
দেখছিনা তো।
দেখার চোখ কি নাই ??
ভোরের ঘোরে
করুন সুরে,
যাই যে তোমায় ডেকে।
কবে অন্ধকারে প্রদীপ জ্বেলে
আসবে দূরের থেকে?


সন্ধ্যাবাতি জ্বালিয়ে খুঁজি
কোথায় তুমি আছো ?
রক্তজবা ফুল টি নিয়ে
বুকের ভিতর বাঁচো। 
সিঁদুর মাখা ঢাকের সুরে
কখন গেলে চুমি ?
প্রসাদ পেতে আসন পাতি
কোথায় আছো তুমি ?

গীর্জা জুড়ে
ঘন্টা বাজে

মধুর মূর্ছনায় ,
আছোই তুমি। 
জানি আমি।
সকল প্রার্থনায়।


অহিংসাতে ,মানবধর্মে
কোথায় আছো বল?
সবার মাঝেই
বিরাজ কর। 
লুকিয়ে শুধু চল।

অন্ধকারে আলোক জ্বেলে
দাঁড়িয়ে আছো  প্রভূ,
দেখা নাইবা হলো
আছোই তুমি।
একলা তো নই কভূ।



শনিবার, ৮ মার্চ, ২০১৪

আলোয় ভরা বিশ্ব



কদম দিলে খোঁপায় ?
চাইনা ,চাইনা।
আনতে পারতে  বেলী ,
অথবা হাসনাহেনা ?
বাদল দিনে নেইতো বাদল 
সুবাস কোথায় ফুলে ?
বৃষ্টিভেজা কদম এনো।
খোঁপায় রাখি তুলে।

তোদের এত্তো কিসের ঝগড়াঝাটি ?
সাতসকালে এসে ?
ওরে গন্ধ কিসের ?
শিউলি নাকি ?
আশ্বিন এসে গেছে ?

শালিক গুলো কদিন হলো
জ্বালায় বড্ড বেশি।
ধান পাকলো নাকি  ?
সুবাস কেনো ?
অঘ্রান  এলো বুঝি ?

কুয়াশার ও সুবাস আছে।
অনুভবে পাই।
আমি গন্ধ কিনি
গন্ধ চিনি
যদি শিশির ঝরে গা'য়।
পৌষ এসছে  দ্বারে
আজকে তারে
জানাই  নিমন্ত্রণ।
মধুর রোদ্র ছটা
মাখবো গায়ে।
জানিয়ে দিও ক্ষণ।

একটা দুটো ছোট্ট কুঁড়ি
দিচ্ছে নাকি উঁকি ?
মাটি হাসছে কেনো ?
ঘ্রাণ আসছে কেনো ?
ফাগুন এলো  নাকি ?

উউফ উড়িয়ে দিলো
প্রাণ হারালো
ঝড়ো  হাওয়া বইছে।
আম কাঁঠালের গন্ধে বাতাস
বোশেখের কথা কইছে।

দৃষ্টি নেইতো কি হয়েছে ?
আছে গভীর  দুটি  চোখ।
আমার আঁধার কালো বারান্দাতেই
লুকিয়ে সকল  সুখ।

আমি সুবাস কিনি
সুবাস চিনি।
সুবাস করি স্পর্শ।
লোকে যতই বলুক আঁধার,
আমার আলোয় ভরা বিশ্ব।

 




 





বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০১৪

পারবিনা আর কষ্ট দিতে



রৌদ ,
জানলাটাতে একটুখানি
দিতে পারিস উঁকি।
ঠাঁই পাবিনা নিস যদি তুই
পুড়িয়ে দেবার ঝুঁকি।

হাওয়া ,
আসতে পারিস মিষ্টি হয়ে
জানলা খোলা সদাই।
যদি বৈরী হয়ে আসবি তবে
দরজা কিন্তু বাঁধাই।

মেঘ ,
দাঁড়াবি নাকি একটুখানি ?
ছায়াসঙ্গীর মতন ?
বৃষ্টি হয়ে কাঁদাস যদি
ফিরিয়ে দেবই তখন।

ওরে তুই ,
ছিটেফোঁটা ঝাপটা হয়ে 
গ্রীলের ধারেই আসিস।
বন্যা হয়ে ভাসাস যদি
বাইরে পড়েই থাকিস।

আমি ,
ভীষণ স্বার্থপরের মতন
নিতে শিখেছি।
পারবিনা আর কষ্ট দিতে
পণ যে করেছি।

আমার ,
জানলা খোলা সবার তরে
দরজা কভূ নয়।
ফিরে যা যতই মিষ্টি দেখতে তোরা
সবটা অভিনয়।

মঙ্গলবার, ৪ মার্চ, ২০১৪

অপেক্ষা



পৃথিবীটা এমন হয়ে গেছে আজকাল মানুষ ভালোবাসতেও ভয় পায়,যদি ওই ভালবাসা একদিন ভুল হয়ে যায়। যদি কষ্ট পায়। ভালবাসা দিতে ভয় পায় যদি কেও দূর্বল ভাবে।
ভালবাসা নিতেও ভয় পায় যদি তা দুঃখ হয়ে আবির্ভূত হয়।
ভারী অদ্ভুত ভাবে পাল্টাচ্ছে পৃথিবী।
তবেকি অবিশ্বাস আর ঘৃনাই একদিন ওই ভালবাসার অমুল্য স্থান টা দখল করে নেবে?
আমি কখনো হতাশাপ্রবণ মানুষ নই। আমি স্বপ্নজুয়াড়ী টাইপ মানুষ। স্বপ্ন দেখতে ভালো লাগে।ভালবাসি।হাজার দুঃখ পেয়েও স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি।

ওই  যে একটা কথা আছেনা ?
মানুষ অপেক্ষা ভালবাসে।
Life Is Nothing But Waiting????
অপেক্ষাই সত্য। অপেক্ষাই সব।

প্রতিরাতে  চাঁদ ওঠে। সব চাঁদে পাগল জোসনা হয়না। তাইতো  অপেক্ষা প্রবারণার চাঁদের।
কখন অমন জোসনা হবে ?সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে ?
জানি ওই জোসনায় কিছুই ভেসে যাবেনা। জানি ওই জোসনায় স্নান করেও অবিশ্বাসের হাত টি ধরেই বলতে হবে "ভালবাসি"।

তবু মানুষ অপেক্ষা করে এক পূর্নিমার জোসনা স্নান বুঝি সবকিছু পাল্টে দিয়ে নতুন সকাল এনে দেবে।
জয়তু সেই অপেক্ষা ..........................

রুদ্মিলার চিঠি ৪



মা যখন ঘুমাতো কোনদিন তার ঘুম মুখের পানে চাইনি। কখনই না। বরং অনেক নাক ডাকতো বলে বিরক্তই থাকতাম সবসময়। পাশে ঘুমাতেই চাইতামনা। আর কিছুক্ষণ পর পর ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতাম। বলতাম : "তুমি এভাবে নাক ডাকলে  আমি কিভাবে ঘুমাবো ?"

খুব অবাক করা ব্যাপার হলো ঠিক একই সময়ে আমার ছেলেটা যখন ঘুমায় আমি কি ভীষণ আদর ভরা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে থাকি। ঘুমের ভিতর ও কি কি করে দেখি।দেখতে দেখতে কখনো রাত পেরিয়ে ভোর হয়ে যায়। আমার দেখা আর শেষ হয়না। ঘুমের ভিতর কি যে  তোলপাড় করে ও বিছানায় !এত্ত বড় বিছানা। আমার জায়গাই মেলেনা। আমার তবু ভালো লাগে। আমি একটুও বিরক্ত হইনা। কত শত রাত অসুস্থ হয়ে নানাভাবে কত বিরক্তই না করেছে ও।
আমি ওই ঘুমচোখে সব ভালোবাসা ,সব আদর ওকে দিয়েছি।আমি প্রাণপণে প্রার্থনা করেছি ওর কষ্টগুলো সব আমার হউক তবু ও ভালো থাকুক। ওর  দেয়া কোনো যন্ত্রণা আমার কাছে যন্ত্রনাই মনে হয়নি।একজন মা তার সন্তানের জন্যে কতো  ভালবাসা ধরে রাখেন ????

অথচ আমার মা এর একটু ব্যাথা কেনো কোনদিন নিতে চাইনি ?এই বিশেষ ঘটনাটা কি  সব মানুষের ক্ষেত্রেই ঘটে ?না শুধু আমার ক্ষেত্রেই ঘটেছে ?আমিকি আর দশজনের চেয়ে আলাদা ?নাকি আমি আর দশজনের মত ?
সম্পর্কের এই সমীকরণ গুলো আমাকে বড্ড ভাবায়।

আসলে আমি একটা অদ্ভুত ভাবনা থেকে এই লেখাটা শুরু করেছিলাম।প্রতিদিন কাজে যাবার সময় যে রাস্তাটা পেরিয়ে আমি যাই তার পাশে একটা দোকান আছে। "খাটিয়ার দোকান"। অন্তিম শয্যায়  চলে গেলে যে বিছানায় সব মানুষ কে শোয়ানো হয়। সেই  বিছানার দোকান। মা বেঁচে থাকাকালীন আমি কোনদিন ওই দোকানটা দেখিনি। মানে চোখে পড়েনি। এটাও একটা আশ্চর্যের ব্যাপার।

আমার অসম্ভব রূপবতী ঘুমচোখ মা টাকে  খাটিয়ায় শোয়ালে কেমন দেখতে লাগে তা আমার জানা  নেই। আমি জানি শুধু সাদা কাপড়ে আমার মা আজীবন অপরূপা।তাই এটুকু বলতে পারি পুরোপুরি  সাদা কাফনে মা কে অপরূপাই লেগেছে নিশ্চয়ই । কেবল ঘুমিয়ে গেলে ওই মুখটাতে কি চুমু খেতে প্রাণ চায় নাকি এটা  খুব জানতে ইচ্ছে করে। নিজেকে অনেক প্রশ্ন করি শেষ ঘুম ঘুমিয়ে গেলে সব চাওয়ার সংযোজন কি একসাথে ঘটতে শুরু করে?
 

তোমাদের যাদের মা আছে তোমরা সবাই একটু দেখোতো ,,,তোমাদের মা কে ঘুমচোখে কেমন দেখতে ????আমি  কখনো দেখে রাখিনিতো তাই বললাম। এখন যে আর কোনদিন দেখতে পাবোনা ঘুমিয়ে গেলে আমার মা কে কেমন দেখতে লাগে ????

সোমবার, ৩ মার্চ, ২০১৪

বর্ষায় খুঁজি ফাগুন



কেমন মিষ্টি মিষ্টি হাওয়া
বুঝি ফাগুন এসেছে।
সবুজে রঙিন দোলা
যেনো আগুন লেগেছে।

কাল পেরিয়ে গেলাম যে পথ
শুকনো বালির কণা।
আজ চলেছি সেই  পথে
সুবাস মাটিতে বোনা।

কুয়াশা ঢাকা যে আকাশ
কাল জানলা ঢেকেছে
আজ নানান বরণ রোদে
ঐ আকাশ সেজেছে।

লাল কৃষ্ণচূড়া গুলো
কিছু উঁকি দিয়েছে।
সুবাস নেইতো জানি
তবু প্রাণ তো ছুঁয়েছে।

মরার কোকিলটারই কথা
নাইবা মুখে নিলাম।
জানে সেইতো আমার ব্যাথা
কার অপেক্ষাতে ছিলাম।

সেই মধুর ফাগুন শেষে
কত বয়ে গেছে বেলা।
আমার শীতের সাথেই সন্ধি
কুয়াশার সাথে খেলা।

আমি অঝোর ধারায় এখন
বর্ষায় খুঁজি ফাগুন।
জানি আসবেনা সে ফিরে
বুকে যতই লাগুক আগুন।